কুলাউড়ায় বোরো ক্ষেতের সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ।

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

কুলাউড়ায় বোরো ক্ষেতের সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্ট:- কুলাউড়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বোরো ক্ষেতের সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন থেকে এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও নেতিবাচক মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। তাদের দাবী, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনা তালিকায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত কৃষকরা বাদ পড়েছেন। যারা অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ’ই বিএনপির দলীয় কর্মী-সমর্থক, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাদের আত্মীয়স্বজন কিংবা তাদের অনুসারী কেউ। এদের কারো কারো আবার বোরো ক্ষেতের জায়গা পর্যন্ত নেই। কেউবা অন্যের জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে ক্ষেত করেছেন কিন্তু তালিকায় তার নামও রয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ প্রকৃত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করে বলছেন, সমন্বয় না করেই এসব তালিকা তৈরী করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নামের তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কৃষকরা প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। পুরো উপজেলা জুড়ে কৃষক সহ সচেতন মহলের মাঝে এই ক্ষোভের মাত্রা আরও তীব্র হচ্ছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজের ফেসবুক ওয়ালে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম বিএনপির ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন করে “ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণে অনেক অভিযোগ শোনা যাচ্ছে,কোন রকমের অনিয়ম বরদাস্ত করা যাবেনা” মর্মে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ফেসবুক ব্যবহারকারী দের নেতিবাচক উক্তিই বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

 

শামীম আহমদ নামে এক ব্যক্তি তার উক্তিতে লিখেছেন, তালিকায় হাজীপুর ইউনিয়নে এমন কিছু লোক আছে যাদের বোরো ক্ষেতের এক শতক জায়গাও নেই। বাতেন চৌধুরী লিখেছেন, পৃথিমপাশা ইউনিয়নে তালিকা প্রস্তুতকারীরা তাদের কারো ভাই, বাবা, চাচা, মামাদের এমনকি যারা আদৌ কৃষক নন তাদেরকেই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন। মুহিতুর রহমান লিখেছেন, জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড তথা ক্লিবডন চা বাগানে বন্যা-ই হয়নি, অথচ এখানকার ১৫ জন কৃষক ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে। অত্র ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহীদ রানা তার মন্তব্যে লিখেছেন, যাদের পায়ে কোনদিন কাদা লাগেনি তালিকায় তারাও এখন কৃষক। কেউ কেউ বলছেন, তালিকায় এমন অনিয়মের কারণে আগামীতে ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

 

জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে উপজেলার হাওরাঞ্চলে আকস্মিক দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুলাউড়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানবিক সহায়তা হিসেবে চলতি বছরের মে ও জুন মাসে পরিবার প্রতি ১৫ কেজি চাল ও নগদ ৩ হাজার টাকা বিতরণের কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী পুরো উপজেলাজুড়ে চূড়ান্ত ওই তালিকায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১৫৩৭। তম্মধ্যে বরমচাল ইউনিয়নে ১৪৫টি পরিবার, ভূকশিমইলে ৪৩৭, ভাটেরায় ১৫০, জয়চন্ডীতে ৯০, ব্রাহ্মণবাজারে ১৯০, কাদিপুরে ১৯৫, কুলাউড়া সদরে ৪০, রাউৎগাঁওয়ে ৬০, টিলাগাঁওয়ে ৩৫, হাজীপুরে ৬৫, পৃথিমপাশায় ৩০ ও কুলাউড়া পৌরসভায় ১০০টি পরিবার রয়েছে।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনা পেতে প্রথমে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ওই তালিকা তৈরীতে সহযোগিতা করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ। পরে সংসদ সদস্যের মনোনীত প্রতিনিধি, বিএনপির সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সভাপতি/সম্পাদক, চেয়ারম্যান/ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলে পরবর্তীতে আরেকটি তালিকা তৈরী করে নাম যোজন-বিয়োজন করেন। যেখানে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে অনেকের নাম বাদ পড়েছে। এদিকে খোদ ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত কৃষকরা স্থান পাননি বলেও অভিযোগ এনেছেন।

 

তবে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থদের যারা বাদ পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে জেলা প্রশাসক বরাবরে পরবর্তী চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার ক্ষুদে বার্তায় জানান, এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ছবি:- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারী প্রণোদনা বিতরণ করছেন টিলাগাও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল বাছিত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Ad

Follow for More!