প্রকাশিত: 5:22 PM, July 9, 2026
নিজস্ব প্রতিনিধি:- কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে এক কাতার প্রবাসীর স্ত্রী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাড়ী না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে ক্রমেই উদ্বেগ বেড়েছে। ঘটনার পর ছোট দুই শিশু মাকে না পেয়ে পাগলপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। বিকেল পর্যন্ত সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অপরদিকে নিখোঁজের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের লোকজনের মাঝে নানা গুঞ্জনও সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লহরাজপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ ছবেদ আলী ওরফে অছি’র মেয়ে সৈয়দা ঈশা আক্তার আয়েশা (৩২) বিয়ের পর থেকে গত প্রায় ৮ বছর যাবৎ স্কুল পড়–য়া দুই শিশুকে নিয়ে টিলাগাঁও বাজারস্থ তার বাবার বাসায় থাকেন। তার স্বামী শ্রীমঙ্গল উপজেলার নোওয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা শাহ মোহাম্মদ আফজাল একজন কাতার প্রবাসী। ঈশা আক্তার আয়েশার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। ৩ ভাই, ৬ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ। আয়েশার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন। এক ভাইয়ের স্ত্রী গত প্রায় ১৫ দিন যাবৎ তার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনিও গতকাল বাসায় ফিরেছেন। ছোট এক ভাই এবং দুই বাচ্চাকে নিয়ে আয়েশা বাবার বাড়ীতে থাকেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় অগ্রণী ব্যাংক কটারকোনা শাখায় আয়েশার নামে একটি হিসাব নাম্বারও রয়েছে। স্বামীর প্রয়োজনে স্ত্রী আয়েশা প্রায়ই ব্যাংকের ওই শাখায় টাকা উত্তোলন করতে যান। এর আগেও বিভিন্ন সময় আয়েশা তার ছোট ভাই সৈয়দ ফাহিমকে সাথে নিয়ে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে যেতেন। কিন্তু বুধবার (৮ জুলাই) এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টিলাগাঁও বাজারস্থ বাসা থেকে তিনি একা ছুটে যান সেখানে। বাসা থেকে যেখানকার দুরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের দাবী, টাকা উত্তোলনের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ; বাড়ি ফেরেননি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। স্বজনরা ঘটনার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
এদিকে ব্যাংক থেকে বড় পরিমাণ টাকা উত্তোলনের পরপরই নিখোঁজ হওয়া এবং সাথে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় এলাকায় মানুষের মাঝে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই নিখোঁজের নেপথ্যে কী এবং এটি কি শুধু কোনো সাধারণ নিখোঁজ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গোপন সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
কোনো ছিনতাই বা দুর্ঘটনার শিকার হলে ফোনটি খোলা থাকা বা অন্য কোনো সূত্র পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। কিন্তু টাকা উঠানোর ঠিক পরপরই ফোনটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এমনকি বড় অঙ্কের টাকা সাথে নিয়ে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা অন্য কারও প্ররোচনা থাকার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় অনেকেই। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলাও কিছু বলা হচ্ছে না।
৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আজিজ বেগ মুঠোফোনে বলেন, বুধবার ব্যাংক থেকে ওই মহিলা টাকা উত্তোলনের পর এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তাদের বাসায় যান। তবে ওই বাসায় দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় সুস্পস্ট কিছু জানা যায়নি।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, নিখোঁজের পরিবার একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তার সর্বশেষ অবস্থান এবং ঘটনার পেছনের আসল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


Published From
Positive International Inc,
73-16, Roosevelt Ave Floor 2, Jackson Heights, New York 11372.
Email : voiceofkulaura2@gmail.com
Chief Editor : Shafiq Chowdhury
Editor : Abdul Quayyum
Managing Editor : Nurul Islam Emon
Design and developed by positiveit.us