প্রকাশিত: 6:19 AM, August 2, 2026
অনলাইন ডেস্ক:- একটাই কথা আছে বাংলাতে, মুখ আর বুক বলে এক সাথে, সে হল..বন্ধু..বন্ধু আমার বন্ধু আমার বন্ধু আমার…বাপ্পী লাহিড়ী ও মুন্না আজিজের গাওয়া ‘বন্ধু আমার’ চলচ্চিত্রের এ গানটি মনে হলেই অন্যরকম অনুভূতি জেগে উঠে। মনে পড়ে যায় অতীতের অনেক স্মৃতি। প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, খেলাধূলা, সিনেমা দেখা…কত শত স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনও কখনও চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। আবেগতারিত হয়ে পড়ি।
বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা যেমন সহজ কথা নয় তেমনি তা ধরে রাখাও সহজ কথা নয়। এজন্যই মনে হয় বলা হয়ে থাকে যে, বন্ধুত্ব হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের মতো; হারালেই কেবল এর মূল্য অনুধাবন করা যায়। কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়লে যেমন তাঁর প্রকৃত বন্ধুদের চেনা যায়। তেমনি সাফল্যের কারণেও বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রক্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও জীবনের প্রতিটা চড়াই-উতরাইয়ে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থার স্থান হয়ে ওঠে যে মানুষটি তিনিই বন্ধু। আনন্দের মুহূর্তগুলোকে দ্বিগুণ করা আর কঠিন বিপদে ছায়ার মতো পাশে থাকার এ অনন্য আত্মিক বন্ধনকে বলে বন্ধুত্ব। সেটি স্বরণে রেখেই আজ আগস্টের প্রথম রোববার (০২ আগস্ট) বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’।
প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধুত্ব দিবস পালন করা হয়। এ বিশেষ দিনটির মূল দর্শন হলো—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মাঝে শান্তি, সহমর্মিতা এবং সামাজিক ঐক্যের সেতু তৈরি করা।
বন্ধু দিবস পালনের মূল শক্তিই হচ্ছে বন্ধুর প্রতি নিঃশর্তভাবে ভালোবাসা, বন্ধুর পাশে থাকা। বন্ধু কিংবা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের সঙ্গে মানুষের পরিচয় যুগ-যুগান্তরের হলেও বন্ধুত্ব দিবসের মতো কেতাবি উদযাপন বেশি দিনের নয়। কাগজে-কলমে প্রায় ৮০ বছর। আর আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকে বয়স মাত্র দুই আড়াই দশক।
বন্ধুত্ব দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে যেয়ে অধিকাংশ মানুষই যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন সেটি হলো, ১৯৩৫ সালে আমেরিকান সরকার এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালে পরদিন সে ঘটনার প্রতিবাদে তার বন্ধু জীবন ত্যাগ করেন। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম রোববার। আর সে থেকেই বন্ধুদের অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের ধারণার সূচনা হয় ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকো শহরে। ড. রামন আর্তেমিও ব্রাচো ও তার বন্ধুরা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, শান্তি ও বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে একটি বিশেষ দিন পালনের উদ্যোগ নেন।
পরবর্তীতে এ উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১১ সালে জাতিসংঘ ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ দিবসের মূল লক্ষ্য ছিল—দেশ, সংস্কৃতি ও মানুষের ভিন্নতার মধ্যেও বন্ধুত্বের মাধ্যমে শান্তি, সহমর্মিতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।
পৃথিবীতে যখন বিভেদ, সংঘাত ও দূরত্ব বাড়ছে, তখন বন্ধুত্ব মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একে অপরের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। কখনো একটি ফোনকল, একটি আন্তরিক কথা কিংবা পুরোনো বন্ধুর খোঁজ নেয়াই তৈরি করতে পারে মানবিকতার নতুন সেতু।
আগস্টের প্রথম রোববার বা জাতিসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস যাই হোক না কেন, বন্ধুত্ব প্রতিদিনের, বন্ধুত্ব চিরকালের। বন্ধুত্বের এ গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।


Published From
Positive International Inc,
73-16, Roosevelt Ave Floor 2, Jackson Heights, New York 11372.
Email : voiceofkulaura2@gmail.com
Chief Editor : Shafiq Chowdhury
Editor : Abdul Quayyum
Managing Editor : Nurul Islam Emon
Design and developed by positiveit.us