স্টাফ রিপোর্টঃ- কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার বাপ্পী লাহিড়ী গত বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
এক নজরে বাপ্পি লাহিড়ীঃ-
১৯৫২ সালের ২৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
মা-বাবা বাঁসুরি লাহিড়ী ও অপরেশ লাহিড়ীও সংগীতের মানুষ।
মাত্র তিন বছর বয়সে তবলা বাজানো শেখা শুরু করেন তিনি।
১৭ বছর বয়সে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষিক্ত হন তিনি। তার অনুপ্রেরণা ছিলেন শচীন দেব বর্মণ।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুম্বাই সিনেমার জগতে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।
বাংলা সিনেমায় গান গাওয়ার পাশাপাশি হিন্দিসহ একাধিক ভাষায়ও গান করেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সংগীত নির্দেশনা দেন।
মিঠুনের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি একের পর এক বিখ্যাত গান গেয়েছেন।
বলিউডে ডিস্কো কিং নামে পরিচিত ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী।
১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে ১২টি সুপারহিট জুবিলি সিনেমার সুর দেন তিনি।
বছরে সর্বাধিক গানের রেকর্ডের জন্যও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছিল বাপ্পি লাহিড়ীর।
কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ীর মামা।
২০১১ সালে আমেরিকান আইডল-জীয় শন বারোজের সঙ্গে তিনি ‘ওয়াকিং অন লাভ স্ট্রিট’ বলে একটি অ্যালবাম করেন।
সবশেষ ইনস্টাগ্রামে পোস্টে নিজের সংগ্রহে থাকা পুরোনো একটি ছবি শেয়ার করেন। নিজের সিগনেচার স্টাইল-সানগ্লাস আর স্বর্ণের চেইন পরা ওই ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছিলেন, ‘ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড’।
স্টাইলের কারণেও পরিচিত ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী।
১৯৭০-৮০-এর দশকে গোটা বলিউড মেতে উঠেছিল বাপ্পি লাহিড়ীর গানেই।
ডিস্কো ড্যান্সার থেকে শুরু করে শরাবি, চলতে চলতের মতো বিভিন্ন জনপ্রিয় গান গেয়েছিলেন তিনি।
বলিউডের রক ও ডিস্কো মিউজিকের প্রবর্তক তিনিই।
২০২০ সালে ‘বাগি-৩’ সিনেমায় তিনি শেষ গান করেছিলেন।
অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াই তার মৃত্যুর কারণ। এটি নিদ্রা সংক্রান্ত অসুখ।
শুধু গানই নয়, নিজস্ব স্টাইলের জন্যও পরিচিত ছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী। সোনার গয়না পরতে তিনি খুব ভালোবাসতেন। তার বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘সোনাই আমার ভগবান।’