ইউটিউব থেকে আয় ? জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১

ইউটিউব থেকে আয় ? জেনে নিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

প্রতিদিন সারা বিশ্বে ৫০০ কোটি ইউটিউব ভিডিও মানুষ দেখেন। পরিসংখ্যান বলছে, একজন দর্শকের ইউটিউব দেখার গড় সময়কাল ৪০ মিনিট। অর্থাৎ ইউটিউবের মাধ্যমে এক বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, আর তাই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ইউটিউব আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী মাধ্যম। এবং এর ফলে ঘরে বসেই অনলাইনে ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ঘরে থাকা মহিলাদের জন্যও আয়ের একটি সহজ মাধ্যম হল ইউটিউব চ্যানেল।

ইউটিউব থেকে আয় কী?

ইউটিউব থেকে আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন। এর অর্থ আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলটিকে বিজ্ঞাপন দাতাদের ব্যবহার করতে দেবেন এবং পরিবর্তে আপনি তাদের থেকে টাকা পাবেন। অর্থাৎ আপনার ইউটিউব ভিডিওর শুরুতে বা মাঝে বিজ্ঞাপনদাতারা তাঁদের বিজ্ঞাপন দেখাবেন আর আপনি ইউটিউব থেকে রোজগার করবেন।

এছাড়া, চ্যানেল মেম্বারশিপ, সুপার চ্যাট, পণ্য বিক্রি, ইউটিউব প্রিমিয়াম ইত্যাদি বিভিন্নভাবেই ইউটিউব থেকে টাকা রোজগার করা সম্ভব।

ইউটিউব থেকে আয়ের উপায়

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে আপনাকে প্রথমেই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। আপনার জি-মেল অ্যাকাউন্টের সাহায্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন।

তবে ইউটিউব চ্যানেল খুললে এবং লোকে সেই ভিডিও দেখলেই সেখান থেকে আয় হবে না। ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য আপনাকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম-এ আপনার চ্যানেলকে নথিভুক্ত করতে হবে। আপনার চ্যানেল-কে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে নথিভুক্ত করার পরই ইউটিউব বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতাদের ভিডিও সেখানে দেবে ও আপনি সেখান থেকে টাকা পাবেন।

ইউটিউব পার্টনাশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্যও আপনাকে কয়েকটি প্রাথমিক শর্ত পূরণ করতে হবে এবং সেই শর্তগুলি পূরণ হলে শুধুমাত্র তখনই আপনি এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের শর্তগুলি হল-

আপনার চ্যানেলে অন্ততপক্ষে ১০০০ জন সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।

·        শেষ ১২ মাসে আপনার চ্যানেলের ৪,০০০ ভ্যালিড পাবলিক ওয়াচ আওয়ার থাকতে হবে।

·        আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে একটি গুগল্ অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে।

আপনি চাইলে আপনার চ্যানেল সেটিং থেকে নোটিফিকেশন অন করে রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই শর্তগুলি পূরণ হলে ইউটিউব থেকে আপনাকে নোটিফাই করা হবে। এই শর্তগুলি একবার পূরণ হয়ে গেলেই আপনি ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

ইউটিউব কিভাবে টাকা দেয়

ইউটিউব গুগল্ অ্যাডসেন্স-এর মাধ্যমে টাকা দেয়। প্রতি মাসের ১০ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে ইউটিউব আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবে। আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে ১০ ডলার জমা হলে গুগল্ আপনার ঠিকানায় ডাক মারফৎ একটি কোড পাঠাবে। আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টে সেই কোডটি ভেরিফাই করাতে হবে। এরপর আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০ ডলার জমা হলে গুগল্ আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আপনার আয় করা টাকা পাঠিয়ে দেবে।

ইউটিউব থেকে আয়ের টিপস্

একথা পরিষ্কার ইউটিউব ব্যবসায় সাফল্যের মূলমন্ত্র দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধি। এমনকি ইউটিউব থেকে আয় শুরু করার জন্যও আপনার ১০০০ জন নিয়মিত দর্শক প্রয়োজন। এছাড়াও দর্শকের প্রোফাইলের ওপরও নির্ভর করে আয়। একজন সফল ইউটিউবার হতে হলে কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন।

সঠিক ক্ষেত্র বেছে নিন

ইউটিউব থেকে আয়ের প্রাথমিক শর্ত হল সঠিক ক্ষেত্রটিকে বেছে নেওয়া। নিজের আগ্রহ, পারদর্শিতার ওপর যেমন তা নির্ভর করবে তেমনই নির্ভর করবে কোন ধরনের দর্শকের কাছে আপনি পৌঁছতে চান তার ওপরও। প্রযুক্তি, বিনোদন, শিক্ষা, খেলাধুলো, লাইফ হ্যাকস্, নিজে করুন, পর্যটন, কৌতুক ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের ইউটিউব চ্যানেল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। নিশ্চিত করুন আপনি যে বিষয়ের ওপর ভিডিও করছেন সেই বিষয়টি আপনার যথেষ্ট জানা আছে, তাহলেই সেই বিষয় সম্পর্কিত একাধিক সফল ভিডিও আপনি তৈরি করতে পারবেন যা দর্শককে আকৃষ্ট করবে।

প্রাথমিকভাবে ধৈর্য রাখুন

একটি ইউটিউব চ্যানেলের প্রাথমিক ১,০০০ এমন ১০,০০০ হাজার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যায় পৌঁছতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, সময় দিতে হয়। যেকোনও ছোট ব্যবসার মতোই ইউটিউব ব্যবসারও প্রথমের দিনগুলো খুব মসৃণ হয় না। কোনওরকম লাভ না করেই আপনারে একের পর এক ভিডিও বানিয়ে চলতে হতে পারে, যদি না আপনার কোনও ভিডিও হঠাতই ভাইরাল না হয়ে যায়।

পেশাদার মানের ভিডিও বানান

ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে ভাল পেশাদার মানের ভিডিও বানানো জরুরি। আপনার ভিডিও যতই তথ্য সমৃদ্ধ হোক না কেন, আপনার উপাস্থাপনা ভাল না হলে দর্শক ভিডিওটি পুরো দেখবেন না বা আপনার চ্যানেলে ফিরে আসার জন্য সাবস্ক্রাইব করবে না।

আজ কাল বিভিন্ন স্মার্টফোনেই অত্যন্ত ভাল মানের ক্যামেরা থাকে, সেই ক্যামেরা ব্যবহার করেও ভিডিও বানাতে পারেন। ভিডিও সম্পাদনা ও শব্দ বিন্যাসের দিকে বিশেষ নজর দিন। অনেক সময়েই খুব ভাল মানের ভিডিও খারাপ এডিটিং-এর জন্য নষ্ট হয়ে যায়। ভিডিও উপস্থাপনার ফরম্যাট সম্পর্কেও যত্নবান হতে হবে। যেমন অনেক সময়ে কথা বলার থেকে ক্যাপশনের ব্যবহার ভিডিওকে বেশি কার্যকরী করে তুলতে পারে।

কোন ভাষায় ভিডিও করবেন তা নিশ্চিত করুন

আপনি যদি বাংলা ইংরেজি দুটো ভাষাতে সড়গড় হন তাহলে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে কোন ভাষায় আপনি আপনার ভিডিওটি করবেন। ভিডিওটির দর্শক কারা হতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই ভিডিওর ভাষা নিশ্চিত করুন। ইংরেজি ভাষায় ভিডিও করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দর্শকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ রয়েছে, আবার ভারতের বাইরের বিভিন্ন দেশের ট্রাফিকের ক্ষেত্রে ইউটিউবের টাকার হারও বেশি, অন্যদিকে আবার ইংরেজি ভাষায় প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি।

পরিশেষে

প্রতি মিনিটে ৩০০ ঘন্টারও বেশি ইউটিউব ভিডিও আপলোড হচ্ছে সারা বিশ্বে। আবার ইন্টারনেট ক্রমশ সুলভ হওয়ার বাড়ছে দর্শক সংখ্যাও। এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে ইউটিউব থেকে আয় করতে মেধা, সৃজন ও শ্রম প্রতিটিই প্রয়োজন।

একবার প্রতিষ্ঠিত ইউটিউবার হয়ে যেতে পারলে ভাল লাভ করা সম্ভব। তবে তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে অনেকটাই। এছাড়া চাকরির পাশাপাশি বাড়তি রোজগারের জন্যও ইউটিউব একটি ভাল মাধ্যম।

নতুন কিছু না তৈরি করলেও নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দর্শকের নজর কাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর ইউটিউব ব্যবসার সাফল্যের মূল কথাই হল দর্শকের নজরে আসা।