ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের তীব্র সংকট।

প্রকাশিত: ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের তীব্র সংকট।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:- চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতের বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কেননা দেশটির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে মারাত্মক সংকটে ভুগছে।

 

ভারতের বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম তৈরি হয়। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ সংকটে পড়ায় থমকে গেছে সিলিকন অয়েল ও অ্যামোনিয়ার মতো জরুরি কাঁচামালের আমদানি। ফলে কনডম উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন উৎপাদন সচল রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে। বৈশ্বিক লজিস্টিক চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম শিল্প এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে।

 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই সংকট হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে নয়, বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ও লুব্রিক্যান্টের ঘাটতির সরাসরি ফল।

 

এছাড়া কাঁচামাল ও প্যাকেজিং উপকরণের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকায় খুচরা বাজারে এই জরুরি পণ্যটির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ায় উৎপাদনকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পিভিসি ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

এক কর্মকর্তার মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর দাম বাড়া ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন সমস্যাও যুক্ত হয়েছে।

 

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। কনডম পরিবার পরিকল্পনা ও রোগ প্রতিরোধে খুব জরুরি। যদি দাম বাড়ে বা সহজে না পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হতে পারে। ইতোমধ্যেই মুম্বাই ও দিল্লির মতো শহরে কিছু জায়গায় কনডমের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

 

Ad

Follow for More!