আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের শ্লোগান, “তথ্য জনগণের পণ্য, তথ্য যেনো হয় সত্য”।

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের শ্লোগান, “তথ্য জনগণের পণ্য, তথ্য যেনো হয় সত্য”।

প্রিয় পাঠক, আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিসব। এদিবসে বিশ্বের সকল গণমাধ্যম কর্মীসহ আপনাদেরকে শুভেচ্ছা।   অন্যদিকে এ যাবৎকাল সারা বিশ্বে, যেসব সংবাদকর্মী ভাইবোনেরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জুলুমনির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি।

এবারের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অফিসিয়্যাল বাক্য বা শ্লোগান নির্বাচন করা হয়েছে, “তথ্য জনগণের পণ্য”। আর আমি অধম যোগ করেছি, “তথ্য যেনো হয় সত্য”। আর একটা কথা, আজকের এ দিবসের নামটি যদি হতো “বিষমুক্ত বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস” তাহলে আমার কাছে ভাল লাগতো।

প্রিয় পাঠক আমরা জানি, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৯৩ সনে জাতি সংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটিকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের স্বীকৃতি দেয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম কর্মীরা এদিবসটি পালন করে আসছেন এবং আজকেও অনেকে পালন করবেন।

আমার প্রশ্ন, কীভাবে পালন করবেন! দৌড়াইয়া, লম্ফজম্ফ দিয়া নাকি গোল টেবিলে বসিয়া সুন্দরসুন্দর কথা বলিয়া নাকি ভায়োলিনে করুণ সুর তুলিয়া বাকস্বাধীনতা বা তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা স্বাধীনভাবে ভোগ করিবার লক্ষ্যে প্লেকার্ড হতে নিয়া গান গাহিতে গাহিতে পদযাত্রা করা! আমার মনে হয় শেষেরটাই যুক্তিযুক্ত।

তবে মনে হয় লাভের লাভ কিছুই নাই। কারণ, আমরা চাকচিক্য ও ভোগের পৃথিবীতে বাস করছি। এখানে আমরা সবাই চাকচিক্য আর ভোগবিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়ে জীবনযাপন করতে চাই। এ দৌড়ে যে জিতবে সেই হবে রাবণ।

তবুও আমাদেরকে সাম্যের গাইন গাইতে হবে, গাইতে হয়। যদি কিছু হয় মন্দ কি! অধিকার তো আর ক্ষমতাবান বা বিত্তবানদের দরকার নেই, এগুলো তাঁদের এমনিই আছে। এটি কেবল প্রয়োজন দরিদ্র আর নিপীড়িত মানুষের। তাঁদেরকে অন্যায়ভাবে চুষে নেয়া ছাড়া তো বিত্তবান বা ক্ষমতাবান হবার জন্য অন্য ভাল কোনো রাস্তা এখন আর খোলা নেই। তাই কিছু সংবাদকর্মীরা মনুষ্যজগতের কাছে সত্য তুলে ধরে বঞ্চিত মানুষের অধিকার কিছুটা হলেও যেনো নিশ্চয়তা পায় সেপথে হাঁটার চেষ্টা করেন ও করে যাচ্ছেন।

মুক্ত গণমাধ্যমের নিশ্চয়তা কমবেশী প্রত্যেক সভ্য রাষ্ট্রের সংবিধানে লিখিতভাবে সংযুক্ত করা আছে। আর যাঁদের হাতে মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষা করার দায়িত্ব আছে, তাঁরাও কার্যতঃ না হলেও মুখের ভাষা দিয়ে এ মুক্তির নিশ্চয়তার বিধান বজায় রেখে যাচ্ছেন। এটাও এযুগে কম বড় কথা নয়! একদিকে যেমন সংবিধানে তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রকাশের শর্তসাপেক্ষে স্বাধীনতা দেয়া আছে, আছে তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রকাশের জন্য সাধারণ আইন। অন্যদিকে তথ্য প্রকাশকে সীমিত করার জন্য আছে ডিজাটাল নিরাপত্তা আইনের মতো পীলা নিথর হবার মতো আইন। সবমিলে সেল্ফ সেন্সরশীপের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে গণমাধ্যমকে।

আবার, আজ থেকে চল্লিশ, পঞ্চাশ বা সত্তর-আশি বৎসর পূর্বের অতীত সংবাদকর্মীরা যেখানে চা সিঙ্গাড়া সমচা খেয়ে পায়ে হেঁটেহেঁটে সাংবাদকর্ম করাকে সাচ্ছন্দ ও নৈতিক মনে করতেন, যেখানে কালের বিবর্তনে আজকের সাংবাদিকতায় চা সিঙ্গাড়া সমচার বদলে স্থান করে নিয়েছে কোনো নামকরা হোটেল-রেস্তোরার নামীদামী সব খাবার, মুদ্রামানের পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় রাখলেও এখনকার একবেলার খাবারের বিল দিয়ে তখনকার একটি পত্রিকা সারামাস চালানো গেছে। পায়ে হাঁটার পরিবর্তে এসছে দামীগাড়ীর তুলতুলে সিট বা সিটের স্বপ্ন, তারপর আছে তুঘলুকি বিপদআপদ। এঅবস্থায় কীভাবে বর্তমান গণমাধ্যমকর্মীরা নীতি বা নৈতিকতার পথে হাঁটবে? তাঁরাও তো মানুষ।

তাইতো অনেকেই দলাদলি কোন্দালী করতে থাকেন যা বলালাম তা পাবার আশায়! তারপরও ভোগাভোগীর আশা বাদ দিয়ে কারোকারো মধ্যে যখন কিছু ব্যতিক্রম আমরা দেখি তখন আমাদের মনে আশা জাগে, ঐ বুঝি কে শোনালো, সম্মান ও পেটসন্তুষ্টি নিয়ে বেঁচে থাকার গান!
পরিশেষে এইটুকু দাবী রেখে আমার আমার লেখা শেষ করছি যে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিসসটি যেনো পায় তার প্রকৃত অর্থের গতি। বিশ্ব মোড়লরা যেনো এ মুক্ত গতির নিশ্চয়তা দান করেন। ধন্যবাদ। 

লেখক- এড্ মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট।
সাবেক সহসভাপতি (১৯৯৩-৯৪)- জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, ঢাকা।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- জুড়ী প্রেসক্লাব(১৯৯৮), মৌলভীবাজার।
কলামিস্ট ও আইনগ্রন্থ লেখক।